ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ডেঙ্গুর দাপট: মেঝেতেই থাকছেন রোগীরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরে ডেঙ্গুর দাপট: মেঝেতেই থাকছেন রোগীরা ছবি : সংগৃহীত
হাসপাতালের ওয়ার্ডে পা রাখলেই চোখে পড়ে ভিন্ন এক চিত্র। নেই নির্ধারিত বেড বা শয্যা, ফলে চাপ সামলাতে অনেক রোগীকে থাকতে হচ্ছে করিডোর কিংবা সিঁড়ির পাশে। কারও শরীরে জ্বর, কারও শরীর দুর্বল; কেউ কেউ আবার ডেঙ্গুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতেও অনেক রোগীকে মশারি ছাড়াই রাত কাটাতে দেখা গেছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে বেড বা শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এরই মধ্যে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আজিম খান (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আকরাম খানের ছেলে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন তিনজন।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বিদ্যমান বেডে সাধারণ রোগীর চাপ তো রয়েছেই। এর সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমা আক্তার ও আবদুস সালাম জানান, ভেতরে বেড না পেয়ে তাদের করিডোরে অবস্থান করতে হচ্ছে। অনেক সময় বিছানা কিংবা মশারিও পাওয়া যায় না। তাদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও অর্থের বিনিময়ে বেড পাওয়ার কথাও শুনতে হচ্ছে।

এদিকে, কোনাবাড়ী থেকে হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন আলিমা বেগম ও সামিউল হক ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে নালা ও ময়লার স্তূপ পড়ে থাকায় সেখানেই মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।

জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ১৮৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আইভি ফ্লুইড ও কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমও চলছে।

তবে হাসপাতালের করিডোরে ঠাঁই নেওয়া রোগী ও স্বজনদের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থাপনা নয়, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নগরীর নালা, ময়লার স্তূপ ও সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে না এলে হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ